রংপুর বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রংপুর বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দিনাজপুরে ৪৮২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১১ মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

দিনাজপুরে ৪৮২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১১ মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

১১ টি মামলার পলাতক আসামী মোঃ রাজু (৪৯) ৪৮২ পসি ইয়াবা ট্যাবলটেসহ গ্রফেতার করছেে র‌্যাব-১৩ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১, দিনাজপুর এর একটি দল ০৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ৮নং রেলঘুন্টি থেকে ১৫০ গজ পূর্ব দিকে চাঁনের বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার উপর গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে ৪৮২ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রাজু (৪৯), পিতা-মৃত খাদেমুল ইসলাম, সাং-৮নং রেলঘুন্টি, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুরকে আটক করে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত আসামীর নামে আরও ১১টি (মাদক, চুরি ও মারামারি সংক্রান্ত) মামলা রয়েছে। উপরোক্ত ঘটনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা জন্য আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ad970


রংপুরবাসীর জন্য শনিবার থেকে স্মার্ট কার্ড

রংপুরবাসীর জন্য শনিবার থেকে স্মার্ট কার্ড

রংপুর সিটি কর্পোরেশনবাসী আগামী শনিবার (৭ অক্টোবর) থেকে স্মাট কার্ড পাচ্ছেন। ওইদিন সকাল ১১টায় রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন।
ইসির এনআইডি শাখার যোগাযোগ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, উদ্বোধনের দিন ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও রংপুর সিটি মেয়র সরফদ্দীন অহম্মদ উপস্থিত থাকবেন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, তারাই পর্যায়ক্রমে এই ‘স্মার্ট’ পরিচয়পত্র পাবেন।



স্মার্ট কার্ড বিতরণের তারিখ ও স্থান নির্ধারিত সময়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার করে জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানাতে একটি হেল্প ডেস্ক খুলেছে এনআইডি উইং। যেকোনো ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করলে নাগরিকদের তথ্য জানাবেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তারা।
এসএমএসএর মাধ্যমে বিতরণের তারিখ ও কেন্দ্র জানতে যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SC লিখে স্পেস দিয়ে NID লিখে স্পেস দিয়ে ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর বসিয়ে (যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের তারা প্রথমে জন্ম সাল যুক্ত করে) ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।



যারা ভোটার হয়ে এখনো এনআইডি পায়নি তাদের প্রথমে SC লিখে স্পেস দিয়ে F লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন স্লিপের ফরম নম্বর স্পেস দিয়ে D লিখে YYY-MMM-DDD ফরম্যাটে জন্মতারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে বিতরণের তারিখ ও বিতরণকেন্দ্র জানিয়ে দেবে এনআইডি উইং।

ad970

সুত্র: জাগো নিউজ 24
রংপুরে ট্রাকচাপায় দুই যুবক নিহত

রংপুরে ট্রাকচাপায় দুই যুবক নিহত

রংপুরে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রায় দেড় ঘণ্টা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ ট্রাক চালককে আটক করতে পারেনি। আজ শনিবার সকাল পৌনে ৯টায়  নগরীর সিও বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত ওই দুই যুবক মোটরসাইকেলযোগে নীলফামারী থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী দেখতে আসার সময় নগরীর সিও বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ট্রাকচাপায় শরিফুল ইসলাম নিহত হয়। আর রুবেল নিহত হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তাদের দুইজনের বাড়ি নীলফামারী জেলায়।



রংপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
দিনাজপুরে কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে ১৮৯৪ চালকল মালিক

দিনাজপুরে কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে ১৮৯৪ চালকল মালিক


চাল সরবরাহে সরকারি খাদ্যগুদামের সঙ্গে চুক্তি না করায় জেলার ১ হাজার ৮৯৪ টি চালকল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করতে যাচ্ছে খাদ্য বিভাগ। চলতি বোরো চাল সংগ্রহ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ক্রয়মূল্যের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি হওয়ায় সরকার শাস্তিমূলক এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। কালো তালিকাভুক্ত হলে এসব চালকল মালিক আমন মৌসুমসহ আগামী দুই বছর অর্থ্যাৎ চার মৌসুম সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবেন না।
চুক্তিবিহীন চালকল মালিকদের প্রতি কড়া নজর এবং সরবরাহকৃত চালকল মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বোনাস ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অপেক্ষায় আছে খাদ্য বিভাগ।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ২ হাজার ৪৯৪ টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে ৬০০ জন চালকল-মালিক চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা চার ভাগের এক ভাগও অর্জিত হয়নি।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় বোরো মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৬ হাজার মেট্রিকটন। এ লক্ষ্যে ১ মে থেকে জেলার ২ হাজার ৪৯৪টি চালকল মালিককে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চুক্তি করতে বলা হয়। চুক্তির শেষ সময় ছিল ২০ মে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৬০০ জন চুক্তিবদ্ধ হন। পরে চুক্তির মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যে আর কেউ চুক্তিবদ্ধ হননি। মোট ৬০০টি চালকল মালিক এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করেছেন। সংগ্রহের শেষ সময় ৩১ আগস্ট হলেও ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।


সরকার চাল কেনার জন্য প্রতি কেজি সেদ্ধ চালের মূল্য ৩৪ টাকা এবং আতপ চালের মূল্য ৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ খোলা বাজারে সর্বনিম্ন মানের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়। চাল উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। লোকসান গুনতে হবে ভেবে অধিকাংশ চালকল মালিক খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হননি। অনেক চালকল মালিক লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে লোকসানের কথা ভেবেই চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
চালকল মালিকরা মনে করছেন, একই বছরে দেশে দুইবার বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর সে জন্যই দফায় দফায় ধান-চালের দাম বেড়েই চলেছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স উত্তরা চালকলের মালিক প্রমোদ রায় বলেন, সরকারিভাবে চালের যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বাজারে তার চেয়ে চালের দাম অনেক বেশি। তাই সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারিনি। সরকার মূল নির্ধারণ করেছে সেদ্ধ ৩৪ টাকা আর আতপ ৩৩ টাকা । অথচ বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৪০ টাকা। সরকার নির্ধারিত চালের দাম বাড়ানো হলে চুক্তিবদ্ধ হতাম। এছাড়া যারা চাল সরবরাহ করেছে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার থেকে যে সুবিধা দেয়ার কথা ছিল তা এখনো দেয়া হয়নি।



দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, কোনো চালকল মালিক নিজের ক্ষতি করে খাদ্য গুদামে চাল দিতে চান না। আবার সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে ২৪ টাকা কেজি। ধানের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করলে চালের কেজি হওয়ার কথা ছিল ৩৯ টাকা। কিন্তু সরকার চালের কেজি নির্ধারণ করেছে ৩৩ ও ৩৪ টাকা। তাই মিলাররা খাদ্য গুদামের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেনি।
নির্ধারিত সময়ে চাল সরবরাহ না করা হলে মিলগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সারাদেশে এটা করা হচ্ছে। দিনাজপুরেও করা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখনো চিঠি পায়নি। আর কালো তালিকাভুক্ত করা হলে আমাদের কিছু করার নেই। ব্যবসায়ীরা তো লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চাল সরবরাহ করবে না।
দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলী জাগো নিউজকে বলেন, যেসব চালকল-মালিক চাল সরবরাহে চুক্তি করেননি তারা কালো তালিকাভুক্ত হতে পারেন। কালো তালিকাভুক্ত হলে, তারা আগামী দুই বছর (চার মৌসুম) কোনো চুক্তি করতে পারবেন না। আর যারা চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হবেন, তারা এক বছর (দুই মৌসুম) চুক্তি করতে পারবেন না।




বন্যার ক্ষতি পোষাবে আমন

বন্যার ক্ষতি পোষাবে আমন

ভাদ্র মাস শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আমন চারা রোপনের পর আশ্বিন মাসের বৃষ্টি কৃষকের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। একদিকে কাঠফাটা রোদ অপরদিকে মাঝে মাঝে বৃষ্টি আমন খেতের চেহারাই পাল্টে দিয়েছে। এতে কৃষক নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ঘরে আমন ধান তোলার। নতুন করে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কৃষক তার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন এমনটাই আশা করছে কৃষি বিভাগ।
তবে কৃষক বলছে অন্যকথা। জমি ফেলে না রেখে পুনরায় একরে ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ করে আমনের চারা রোপন করেছেন। তবে ফসল নিয়ে বেশ আশাবাদী কৃষক। বেশি দামে চারা কিনে রোপন করলেও এখন সবুজ ধানের খেতেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তারা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার দিনাজপুরে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণও হয়। কিন্তু চারা রোপনের কিছুদিনের মধ্যে আগস্ট মাসের শুরুতে দিনাজপুরে শুরু হয় ভয়াবহ বন্যা। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয় কৃষকরা। বন্যার পানিতে তলিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আশংকা দেখা দেয় আমন চাষেও বিপর্যয় ঘটার।
কিন্তু তড়িত পদক্ষেপ ও কৃষককে পরামর্শ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস যোগায় কৃষি বিভাগ। সফলতাও পায়। বন্যা পরবর্তী সময় নতুন করে নাবী জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করে ও দগচি দিয়ে শুরু হয় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আমনের চারা রোপন। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭১০ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৮৩৩ হেক্টর বেশি।
বীরগঞ্জ উপজেলার নিচ পাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের শাহাজাহান সিরাজ বুলবুল জানান, বন্যায় তার ৪ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছিল। বাজার থেকে চড়া দামে আমনের চারা কিনে পুরো জমিতেই চারা লাগিয়েছেন। আমনের চারাও লেগেছে সুন্দর। তার মাঠ এখন সবুজ আর সবুজ। তবে বন্যার কারণে তার উৎপাতন একমাস পিছিয়ে যাবে। কী পরিমাণ উৎপাদন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলা সম্ভব নয় কারণ এটা একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।
সদর উপজেলার ১০নং কমলপুর ইউনিয়নের দাইনুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, বন্যায় তার চার বিঘা (দুই একর) জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ করে নাবী ধানেরে চারা রোপন করেছেন।
ফসল কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, যেভাবে জমিতে ধানের থপ লেগেছে তাদে করে আশা করা যায় ফসল ভালোই হবে। তবে দুই বার চারা রোপন সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিতে যে খরচ হয়েছে তা কোনোভাবেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি। তবে তার গ্রামে অনেককে ধানের চারা পেতে দেখেছেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ গোলাম মোস্তফা জানান, এবারের বন্যায় জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তবে তা পূরণ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে দেরি করে লাগানো চারা থেকে কেমন উৎপাদন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশ্বিন মাসে রোদ ও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় এবং বন্যার কারণে আবাদি জমিতে পলি পড়ায় উৎপাদন বেশ ভালোই হবে। কৃষকরা তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন।
তিনি বলেন,আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। বন্যার কোনো প্রভাব পড়েনি। উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমনের রোপা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে, আশা করছি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়ে ছাড়িয়ে যাবে।


দিনাজপুরে পাইকারি পর্যায়ে কমেছে আটার দাম

দিনাজপুরে পাইকারি পর্যায়ে কমেছে আটার দাম

উত্তরের জেলা দিনাজপুরে আটার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে জেলার পাইকারি বাজারগুলোয় খাদ্যপণ্যটির দাম কমেছে বস্তাপ্রতি (৭৪ কেজি) ৫০-২৫০ টাকা। মূলত গম সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আটার দাম কম রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা পর্যায়ে তুলনামূলক বেশি দামে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে।



গতকাল দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি বস্তা তৃষা আটা ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক মাস আগেও পণ্যটির দাম ছিল বস্তাপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে বস্তাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা। অন্যদিকে পণ্যটির ৩৭ কেজির প্রতি বস্তা বিক্রি হয় ৯৩০-৯৫০ টাকায়। এক মাস আগেও পণ্যটি প্রতি বস্তা ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাত্ এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা।



স্থানীয় লাভলী ফুড লিমিটেডের ম্যানেজার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গম উৎপাদন বাড়া-কমার সঙ্গে আটার দাম সরাসরি জড়িত। খাদ্যপণ্যটির বাড়তি উৎপাদনের কারণে পাইকারি পর্যায়ে আটার দাম কম রয়েছে। তবে দিনাজপুরের খুচরা বাজারগুলোয় আটার দাম পাইকারি বাজারের তুলনায় কমেনি। গতকাল স্থানীয় মুদি দোকানগুলোয় প্রতি কেজি আটা ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এবারের বর্ষা মৌসুমে আগাম বন্যায় প্লাবিত হয় পুরো জেলা। সে সময় আটার দাম কিছুটা বেড়ে যায়। বর্তমানে খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্যটির বাড়তি এ দাম বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। 



শহরের টিঅ্যান্ডটি রোডের ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী মো. চান মিয়া বলেন, পাইকারি পর্যায়ে আটার দাম কমে এসেছে। তবে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এখনো বাড়তি দামে পণ্যটি কিনতে হচ্ছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
গ্রাহক পর্যায়ে কম দামে আটা পৌঁছে দিতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আলী  বলেন, ওএমএসের আওতায় সরকার নির্ধারিত কম দামে চাল ও আটা বিক্রির জন্য জেলার ১২টি পয়েন্টে ২৪ জন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। তারা ক্রেতাদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে খোলাবাজারে আটা ও চাল বিক্রি করবেন। প্রতি কেজি আটার দাম ধরা হয়েছে ১৭ টাকা। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ওএমএসের আওতায় চালু করা পয়েন্টগুলোয় কম দামে আটা কিনতে ক্রেতাদের মাঝে তেমন একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। (বণিক বার্তা)